দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১১ মার্চ ১৮৪০ – ১৯ জানুয়ারি ১৯২৬)
পরিচিতি:
দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বিশিষ্ট বাঙালি কবি, সঙ্গীতকার, দার্শনিক, গণিতজ্ঞ ও চিত্রশিল্পী। তিনি বাংলা সংকেত লিপি (শর্ট হ্যান্ড) এবং স্বরলিপি রচনার অগ্রপথিক ছিলেন। পারিবারিকভাবে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড়োদাদা।
জন্ম ও পরিবার:
জন্ম: ১১ মার্চ ১৮৪০, জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি, কলকাতা।
পিতা: দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, মাতা: ঘটকুমারী।
স্ত্রীবিয়োগ: যৌবনে ঘটে, পরে বিপত্নীক জীবনযাপন।
শিক্ষা ও কর্মজীবন:
প্রাথমিক শিক্ষা গৃহশিক্ষকের নিকট, পরে সেন্ট পল’স স্কুল ও হিন্দু কলেজে অধ্যয়ন।
আদি ব্রাহ্মসমাজের আচার্য (১৮৬৬-৭১)।
তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা সম্পাদনা (১৮৮৪–১৯০৯), হিতবাদী পত্রিকা প্রতিষ্ঠা।
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সভাপতি (১৮৯৭–১৯০০)।
সাহিত্যচর্চা ও দর্শন:
প্রথম অবদান: কালিদাসের মেঘদূত অনুবাদ (১৮৬০)।
উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: স্বপ্নপ্রয়াণ (১৮৭৫)।
দর্শনগ্রন্থ: তত্ত্ববিদ্যা (৩ খণ্ড, ১৮৬৬–৬৯), অদ্বৈত মতের সমালোচনা (১৮৯৬), আর্যধর্ম ও বৌদ্ধধর্মের ঘাত-প্রতিঘাত (১৮৯৯)।
বাংলা সংকেত লিপি ও স্বরলিপির প্রচলন।
হিন্দুমেলার জন্য দেশাত্মবোধক গান রচনা।
শান্তিনিকেতন:
জীবনের শেষ ২০ বছর শান্তিনিকেতনে জ্ঞানচর্চা ও লেখালিখিতে ব্যয়।
আশ্রমিকদের সঙ্গে হাস্যোদ্দীপক ছড়া রচনা ও প্রকৃতির সঙ্গে বন্ধুত্ব।
রবীন্দ্রনাথ, মহাত্মা গান্ধী ও অন্যান্য বিদ্বানদের সঙ্গে সংলাপ।
প্রধান রচনাবলি (বাংলা ও ইংরেজি):
বাংলা: ভ্রাতৃভাব (১৮৬৩), স্বপ্নপ্রয়াণ (১৮৭৫), সোনার কাঠি রূপার কাঠি (১৮৮৫), অদ্বৈত মতের সমালোচনা (১৮৯৬), ব্রহ্মজ্ঞান ও ব্রহ্মসাধনা (১৯০০) ইত্যাদি।
ইংরেজি: বাক্সমিতি (১৯১৩), অন্টোলজি (১৮৭১) ও জ্যামিতি-সংক্রান্ত গ্রন্থ।
অন্যান্য: জ্ঞানাঙ্কুর, তত্ত্ববোধিনী, ভারতী, সাধনা, পত্রিকায় প্রকাশিত অজস্র রচনা।
উত্তরপুরুষ:
পাঁচ পুত্র: দীপেন্দ্রনাথ, অরুণেন্দ্রনাথ, নীতীন্দ্রনাথ, সুধীন্দ্রনাথ, কৃপেন্দ্রনাথ।
উল্লেখযোগ্য: সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর (লেখক), দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর (রবীন্দ্রসংগীতের প্রধান স্বরলিপিকার), সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর (সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব), পৌত্রী লতিকা (শর্মিলা ঠাকুরের মাতামহী)।
মৃত্যু:
১৯ জানুয়ারি ১৯২৬, কলকাতা।